Skip to content

Tachyon

কল্পনার বিজ্ঞান

কফি এনিমা : বিজ্ঞানের মুখোশে অপবিজ্ঞান

সকাল সকাল এক মগ ধোঁয়া উঠা ব্ল্যাক কফিতে চুমুক দিতে দিতে স্ক্রল করছিলাম। হঠাৎ সামনে এলো এক তথাকথিত ডাক্তার কফি মলদ্বারে ঢুকিয়ে আবার বের করছে! এর নাম না কি কফি এনিমা। তার দাবী এর দ্বারা শরীর থেকে দূষিত পদার্থগুলো বের হয়ে যায় আর লিভারের কাজ করার ক্ষমতাও বাড়ে। কিন্তু আদৌ কি তাই?

কফি এনিমার প্রচলন ১৯৩০ এর দশকে ম্যাক্স গার্সন নামে এক ভদ্রলোক। কফি এনিমা প্রক্রিয়ায় প্রায় ১ লিটার ফুটন্ত ফিল্টার করা পানিতে ৩ টেবিল চামচ হালকা রোস্ট করা কফি যোগ করতে হয় এবং এটি ৩ মিনিট ফুটিয়ে নেওয়ার পর ১৫ মিনিট মৃদু আঁচে রেখে দিতে হয়। দ্রবণটি ঠান্ডা হওয়ার পর অতিরিক্ত পানি যোগ করে মোট পরিমাণ প্রায় ৯০০ মিলিমিটার করতে হয়। শরীরের প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার উঁচুতে ঝুলানো একটি টিউবের মাধ্যমে তা আস্তে আস্তে মলাশয়ে প্রবেশ করতে হয়। সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় ১২ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে।

কফি এনিমার সমর্থকদের দাবি এটা লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর এনজাইম জিএসটি (Glutathione S-transferase) তৈরি করে। তবে ২০২০ সালে প্রকাশিত হওয়া দুইটি গবেষণা অনুযায়ী কফি এনিমার কোনো উপকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। গবেষণাপ্রবন্ধ দুইটির শিরোনাম যথাক্রমে (1) The safety and effectiveness of self-administered coffee enema: A systematic review of case reports ও (2) Proctocolitis From Coffee Enema. ACG Case Rep J.

তবে ভিত্তিহীন এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি যে এতো দেদারসে চলছে তা কি পুরোপুরি নির্দোষ? চিন্তা করে দেখুন তো কফি যদি ঠিকমতো ঠাণ্ডা না করা হয় তাহলে কি হবে? কোলন পুড়ে যেতে পারে! এমনকি যে ব্যাগে করে কফি ঢোকানো হবে তা ঠিকঠাকমতো জীবাণুমুক্ত করা না হলে ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ প্রথম গবেষণাপ্রবন্ধে উল্লেখিত তিনজন ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হিসেবে কফি এনিমাকে দায়ী করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha