Skip to content

অর্ধশতাব্দী পর প্রথমবারের মতো চাঁদে ফিরছেন নভোচারীরা

গত ৫৮ বছরে মানবজাতি ভীষণভাবে বদলে গেছে। চাঁদ? সেটা আবার খুব একটা বদলায়নি। ১৯৬৮ সালেই নভোচারীরা প্রথম চাঁদের খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন, এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে আগামী কিছুদিনের মাঝে একদল মানুষ আবার সেখানে সেই বহু পুরনো স্থানেই। এই মানুষরা এমন এক মানব প্রজাতির প্রতিনিধিত্ব করবে যাদের হাতে রয়েছে এখন আধুনিক সব যন্ত্র এবং সক্ষমতা। আর হ্যাঁ প্রচুর সমস্যাও আছে, যা সেই অর্ধশতাব্দী আগে ছিল অস্তিত্বহীন।

সে সময়ে সবচেয়ে বেশি শঙ্কা ছিল যে, চাঁদে যাওয়া মানে হয়তো চাঁদটাকেই ধ্বংস করে ফেলা। ১৯৬৮ সালের ২১শে ডিসেম্বর অ্যাপোলো ৮ উৎক্ষেপণের কয়েক মাস আগে নাসার তৎকালীন ফ্লাইট অপারেশন পরিচালক ক্রিস ক্রাফট -এর কাছে সুসান বোরম্যান এভাবেই বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। সুসান ছিলেন মিশনের কমান্ডার ফ্রাঙ্ক বোরম্যানের স্ত্রী। ফ্রাঙ্ক এমন একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন যারা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের দিকে পাড়ি জমাবে।

অ্যাপোলো ৮-এর জন্য দুটি সম্ভাব্য মিশনের রূপরেখা ছিল: একটি নিরাপদ এবং অন্যটি ভয়ঙ্কর। নিরাপদটিতে ছিল চাঁদের উল্টো পিঠ বা দূরবর্তী পাশ দিয়ে একবার চক্কর দেওয়া এবং চাঁদের মহাকর্ষ বল ব্যবহার করে মহাকাশযানটিকে গুলতির মতো ছুঁড়ে পৃথিবীতে ফেরত পাঠানো। আর ভয়ঙ্করটিতে ছিল চাঁদে পৌঁছানো এবং অ্যাপোলো ৮-এর কামানের মতো শক্তিশালী মূল ইঞ্জিন ব্যবহার করে যানের গতি কমিয়ে চাঁদের কক্ষপথে স্থির হওয়া, এবং পৃথিবীতে ফেরার আগে চাঁদকে ১০ বার প্রদক্ষিণ করা। এই ভয়ঙ্কর মিশনের সমস্যাটি ছিল ঘরে ফিরে আসার অংশটি নিয়ে। যদি মূল ইঞ্জিনটি একবার চালু হয়ে নভোচারীদের কক্ষপথে স্থাপন করে, কিন্তু পরবর্তীতে সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য দ্বিতীয়বার চালু হতে ব্যর্থ হয়। তখন সম্ভবনা ছিল মহাকাশযানটি একটি স্থায়ী উপগ্রহে এবং একটি স্থায়ী কফিনে পরিণত হবে। তখন ক্রুদের বাঁচিয়ে                  রাখার অক্সিজেন এবং জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার অনেক পরেও সেটি চাঁদের বিষুবরেখা ঘিরে অনন্তকাল ঘুরতে থাকবে। তাই সুসান, যার চাঁদের কারণে বিধবা হওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না, ক্রাফটকে তার অফিসে গিয়ে চেপে ধরলেন।

“যদি ওরা আটকে যায়,” তিনি বলেছিলেন, “তবে আপনারা সবার জন্য চাঁদটাকে নষ্ট করে দেবেন। ওই তিনজন মৃত মানুষের কথা না ভেবে আর কেউ কখনো চাঁদের দিকে তাকাতে পারবে না।”

ক্রাফট তাতে বিচলিত হননি। তিনি সেই কক্ষপথের মিশনেরই আদেশ দিলেন আর এর মাধ্যমেই ইতিহাসের বিশাল সব মোড় ঘুরে গেল। ক্রিসমাস ইভ বা বড়দিনের আগের সন্ধ্যায়, নভোচারীরা চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছালেন, তাদের টিভি ক্যামেরা চালু করলেন এবং চাঁদের প্রাচীন, বিধ্বস্ত পৃষ্ঠের ছবি সরাসরি সম্প্রচার করলেন ১০০ কোটিরও বেশি টেলিভিশন দর্শকের কাছে। যা ছিল তৎকালীন মানব জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। বিশেষ করে তিনজন মানুষ বোরম্যান, জিম লাভল এবং বিল অ্যান্ডার্স, ২৭ মিনিটের এক মহাজাগতিক ভ্রমণবৃত্তান্ত বর্ণনা করলেন। এবং শেষে, সেই হিমশীতল, পবিত্র রাতে, বুক অব জেনেসিস বা বাইবেলের আদিপুস্তক থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্লোক পাঠ করলেন। পড়া শেষ হলে বোরম্যান অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানলেন।

“আর অ্যাপোলো ৮-এর ক্রুদের পক্ষ থেকে,” তিনি বললেন, “আমরা বিদায় নিচ্ছি, শুভকামনা, শুভরাত্রি, শুভ বড়দিন, এবং এই সুন্দর পৃথিবীতে আপনারা যারা আছেন, ঈশ্বর আপনাদের সবার মঙ্গল করুন।”

সেই বড়দিনের শুভেচ্ছাটি একটি উপসংহার এবং একটি মুক্তি হিসেবে কাজ করেছিল এমন একটি রক্তে রঞ্জিত বছরের জন্য।  যে বছরটি দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ড এবং জ্বলন্ত সব শহর, প্রাগে সোভিয়েত ট্যাঙ্ক, টেট ছুটির দিনে উত্তর ভিয়েতনামিদের আক্রমণ, শিকাগোতে ডেমোক্রেটিক কনভেনশনে দাঙ্গা এবং আরও অনেক কিছু। বোরম্যান, লাভল এবং অ্যান্ডার্স ফিরে আসার পর অগণিত কার্ড, চিঠি এবং টেলিগ্রাম পেয়েছিলেন, কিন্তু যে চিঠিটি তাদের সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ করেছিল, সেটি ছিল এমন এক নারীর যার নাম এখন সবাই ভুলে গেছে। তিনি কেবল লিখেছিলেন, “আপনাদের ধন্যবাদ। আপনারা ১৯৬৮ সালকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।”

২০২৬ সালটি এখনও বেশ নতুন এবং এটিও একইভাবে মুক্তি পেতে পারে। ৬ই ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ‘আর্টেমিস ২’ -এর ক্রুরাও চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। এটি নিশ্চিতভাবেই চাঁদে প্রথম মানব অভিযান হবে না। তবে এটি হবে ১৯৭২ সালের পর প্রথম, যখন অ্যাপোলো ১৭ -এর ক্রুরা ঘরে ফিরে এসেছিলেন, অ্যাপোলো মুন প্রোগ্রাম বাতিল করা হয়েছিল এবং চন্দ্রযাত্রার পথটি গভীর অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল।

ইতিহাস বোরম্যান, লাভল এবং অ্যান্ডার্সের নাম মনে রেখেছে; মনে রেখেছে অ্যাপোলো ১১-এর নীল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্স এবং বাজ অলড্রিনকে; অ্যাপোলো ১৩-এর লাভল, জ্যাক সোয়াইগার্ট এবং ফ্রেড হেইসকে। শীঘ্রই হয়তো ইতিহাস মনে রাখবে আর্টেমিস ২-এর রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোক এবং জেরেমি হ্যানসেনের নামও।

উড্ডয়নের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে তিনি ইতিহাসের ভার অনুভব করছেন কি না জিজ্ঞেস করা হলে, ওয়াইজম্যান, যিনি বোরম্যান, আর্মস্ট্রং এবং লাভলের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মিশনের কমান্ডার হয়েছেন, প্রথমে রসিকতা করেন। তিনি বলেন, “প্রায় ৩০ সেকেন্ড আগ পর্যন্ত আমি তা ভাবিনি” । “তবে সত্যি বলতে, আমি মনে করি না আমাদের মধ্যে কেউ মিশনের ওই দিকটা নিয়ে ভেবেছে। আমি আসলেই মনে করি আমরা চাঁদে দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানের ক্ষেত্রে পরবর্তী সঠিক পদক্ষেপটি নিচ্ছি। প্রথম হওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো এরপর দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং আরও অনেক পদক্ষেপ আসবে।”

১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, রবিবার ফ্লোরিডার টাইটাসভিল থেকে দেখা যাচ্ছে, নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯বি-তে থাকা আর্টেমিস ২ স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেট এবং ওরায়ন মহাকাশযানের পেছন দিয়ে পূর্ণিমার চাঁদ উঠছে। ক্রেডিটঃ নাসা/জন ক্রাউস

এমন একটি মিশন যা এত আশা বহন করছে, তার জন্য আর্টেমিস ২ তুলনামূলকভাবে সহজ একটি গতিপথ বা ট্রাজেক্টরি অনুসরণ করবে। উৎক্ষেপণের পর, এটি পৃথিবীর চারপাশে দুটি দীর্ঘ, উঁচু এবং চক্রাকার কক্ষপথে ঘুরবে, এরপর চাঁদের দিকে মুখ করে ইঞ্জিন চালু করবে এবং পৃথিবীর মহাকর্ষীয় টান থেকে নিজেকে মুক্ত করে নেবে। এটি সেই নিরাপদ রূপরেখাটি অনুসরণ করবে যা ক্রাফট অনেক আগে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, চাঁদের উল্টো পিঠ বা দূরবর্তী পাশ দিয়ে উড়ে যাবে এবং কোনো চান্দ্র কক্ষপথে প্রবেশ না করেই ১০ দিনের মিশন শেষ করে ঘরে ফিরে আসবে। কিন্তু এই ১০ দিন নাসার বিশাল ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এসএলএস) মুন রকেট এবং ‘ওরায়ন’ মহাকাশযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে কাজ করবে, যা আর্টেমিস ৩, ৪, ৫ এবং পরবর্তী চন্দ্রাভিযানের প্রস্তুতির অংশ।

আর্টেমিস ২ ক্রুদের পৃথিবী থেকে এতটা দূরে নিয়ে যাবে যতটা দূরে এর আগে কোনো মানুষ ভ্রমণ করেনি। বিকল হয়ে যাওয়া অ্যাপোলো ১৩ মহাকাশযানটি চাঁদের চারপাশে একই ধরণের পথ অনুসরণ করেছিল এবং চাঁদের দূরবর্তী পাশ থেকে ১৫৮ মাইল দূরে গিয়ে পৌঁছেছিল, যা ছিল তাদের পৃথিবী হতে সর্বোচ্চ দূরত্ব। ৫৬ বছর ধরে সেই মিশনটি দূরত্বের রেকর্ড ধরে রেখেছিল, কিন্তু আর্টেমিস ২ সেই রেকর্ড ভেঙে ফেলবে যখন মহাকাশযানটি চাঁদের উল্টো পিঠ থেকেও আরও বিশাল ৪,৭০০ মাইল দূরে ভ্রমণ করবে। সেই দূরত্ব থেকে, ক্রুরা একই ফ্রেমে পৃথিবীর গোলক এবং চাঁদের গোলকের ঐতিহাসিক ছবি তুলতে সক্ষম হবেন।

“আমি খুব সচেতনভাবে নিজেকে চাঁদের উল্টো পিঠ দেখার অনুভূতি কেমন হবে তা ভাবা থেকে বিরত রাখছি,” ওয়াইজম্যান বলেন। “কারণ আপনার প্রত্যাশা যাই হোক না কেন, বাস্তবতা হবে ভিন্ন।”

আর্টেমিস ২ শুধুমাত্র অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে চাঁদে পৌঁছানো প্রথম মিশনই হবে না, এটি একটি উল্লেখযোগ্য জনসাধারণের মাঝে জাগরণ এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত প্রদান করবে। কোক হবেন চাঁদে যাওয়া প্রথম নারী, গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ বা অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি এবং হ্যানসেন একজন কানাডিয়ান হিসেবে, প্রথম অ-মার্কিনি।

“এক দশকেরও বেশি সময় আগে, নাসা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে সমতা এবং অন্তর্ভুক্তি হবে এর মূল মূল্যবোধের অংশ,” গ্লোভার বলেন। “সেই সিদ্ধান্তগুলোর ফলেই আজ আমাদের এমন একটি নভোচারী অফিস আছে, যা দেখতে অনেকটা আমেরিকার মতোই। আপনি যেকোনো চারজন মানুষকে বেছে নিলে তারা দেখতে এই ক্রুদের মতোই হবে।”

“আমাদের অনেক বৈশ্বিক চাপ এবং সমস্যা রয়েছে,” হ্যানসেন বলেন। “আর সেই বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর জন্য বৈশ্বিক সমাধান প্রয়োজন। এটি [আর্টেমিস ২-এ একজন কানাডিয়ানকে অন্তর্ভুক্ত করা] আমরা একসাথে কী করতে পারি তার একটি চমৎকার উদাহরণ।”

আর্টেমিস মিশনে অংশীদার হিসেবে কেবল যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডাই নেই। ২০২০ সালে, নাসা এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘আর্টেমিস অ্যাকর্ডস’ প্রতিষ্ঠা করে, যা এখন ৬১টি দেশ স্বাক্ষর করেছে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে মহাকাশের শান্তিপূর্ণ অন্বেষণে আবদ্ধ করেছে (উল্লেখ্য এখানে বাংলাদেশেও রয়েছে)। এমনকি ভূ-রাজনৈতিক মৈত্রীগুলো চাপে থাকলেও, এই চুক্তিগুলো এখনও টিকে আছে, অন্তত এখনকার জন্য। স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে আর্টেমিস প্রোগ্রামে মডিউল, অর্থ এবং অন্যান্য সম্পদ, যেমন নভোচারীসহ অবদান রাখতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা, যেখানে বরফের মজুদ নভোচারী বাসিন্দাদের জন্য পানি, রকেটের জ্বালানি এবং শ্বাসযোগ্য অক্সিজেনের অফুরন্ত উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। অ্যাপোলো নভোচারীদের চাঁদে পাঠানোর কাজে কোনো না কোনোভাবে জড়িত মানুষের সংখ্যা হিসেবে ৪,০০,০০০-কে ব্যাপকভাবে গ্রহণ করা হয়, যাদের প্রায় সবাই ছিলেন আমেরিকান। আর্টেমিসের জন্য এবার আন্তর্জাতিকভাবে একই রকম একটি বিশাল বাহিনী গঠন করা হচ্ছে।

“সেদিন আমি ভাবছিলাম আমরা যখন চাঁদে পৌঁছাব তখন কেমন হবে,” কোক বলেন। “এবং একমাত্র যে কারণে আমি মেনে নিতে পারি যে ওই দলে আমার নাম আছে তা হলো, আমরা একটি দলের অংশ, সেই সব মানুষ যারা কঠোর পরিশ্রম করছেন।”

২০২৬ সালের ১৭ই জানুয়ারি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে নাসার আর্টেমিস ২ স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেট এবং ওরায়ন মহাকাশযানকে ভেহিকেল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে বের করে লঞ্চ প্যাড ৩৯বি-তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জিম ওয়াটসন—এএফপি/গেটি ইমেজেস

চাঁদের পথ

আর্টেমিস ২ -এর চারজন সদস্য একসাথে চাঁদে যাবেন। একই মুহূর্তে, একই মহাকাশযানে, কিন্তু তারা এই যাত্রায় অংশগ্রহণ করেছেন খুব ভিন্ন ভিন্ন পথ ধরে। গ্লোভারের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। যে সময় তার বয়স ছিল ১০ বছর, তিনি ও তার মা লস এঞ্জেলেসে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। লস এঞ্জেলেসের জন্য আবাহাওয়াটা একটু বেশিই ঠান্ডা ছিল, এমনকি শীতকালেও। তিনি যে পাতলা জ্যাকেটটি পরেছিলেন তা নিশ্চিতভাবেই সেই ঠান্ডার জন্য যথেষ্ট ছিল না। কিন্তু তার মা, যিনি তাকে একাই বড় করছিলেন এবং আলো জ্বালিয়ে রাখতে ও বাড়ি ভাড়া দেওয়ার জন্য একাধিক চাকরি করছিলেন। সাধারণত এই উষ্ণ শহরে ছেলের জন্য একটি ভালো শীতের কোট কেনাকে বিলাসিতা মনে করে কেনা হয়ে উঠেনি। তাই তিনি যখন বাস স্টপে দাঁড়িয়ে ছিলেন, বাতাস তার জ্যাকেট ভেদ করে যাচ্ছিল। তিনি কিছুটা ঈর্ষান্বিতভাবে একের পর এক রাস্তায় চলমান গাড়িদের যেতে দেখছিলেন। গাড়ির ভেতরের সবাইকে বেশ উষ্ণ দেখাচ্ছিল, আরামদায়ক দেখাচ্ছিল, সবাই ছিলেন সেই ভাগ্যবান মানুষ যারা ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে এমন একটি বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন না যা কখনোই আসবে না। এবং তখন তার মনে একটি চিন্তা এল।

“যখন আমি এই ধরণের জীবনযাপন থেকে বেরিয়ে আসবই!” তিনি আরও প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, “আমি আর কখনো এমনটা করব না। আমি আর কখনো ফিরে যাব না।”

বেরিয়ে আসার জন্য তার প্রথম পদক্ষেপ ছিল পড়াশোনা, সেটা কঠোর পড়াশোনা। তিনি তার প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুল জীবনে দারুণ ফলাফল করেছিলেন। হাই স্কুলের ছাত্র হিসেবে তিনি বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং পরপর দুই বছর এপি বায়োলজি ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলেন—শুধুমাত্র বিষয়টিকে ভালোবাসতেন বলে।

“ও খুব মেধাবী ছিল,” তার শিক্ষক রবিন ইকেদা স্মরণ করেন তার বাল্যকালের কথা। “ও ছিল অতৃপ্ত, কৌতূহলী এবং বিস্ময়ে ভরা। ও খুব হাসি-খুশিও ছিল। আমি কখনো কাউকে স্বেচ্ছায় দ্বিতীয়বার কোনো কোর্সে নাম লেখাতে দেখিনি।”

যখন কলেজে যাওয়ার সময় এল, জীববিজ্ঞান বাদ পড়ল এবং গ্লোভার ক্যালিফোর্নিয়া পলিটেকনিক স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়লেন। স্নাতক শেষ করার পর, তিনি নৌবাহিনীতে তালিকাভুক্ত হন এবং একজন বৈমানিক হওয়ার প্রশিক্ষণ নেন। ইউ.এস.এস জন এফ কেনেডি জাহাজের ডেক থেকে ৪০০ বারেরও বেশি টেক-অফ এবং ল্যান্ডিং-এর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।

কিন্তু সামরিক জীবন চড়া মূল্য আদায় করতে পারে। এবং গ্লোভারের জন্য সেটা আরও চরম পর্যায়ে পৌঁছে। ক্রমাগত ডিউটি এবং অ্যাসাইনমেন্টের অর্থ ছিল তার স্ত্রী এবং চার কন্যার কাছ থেকে দূরে থাকা। ২০১২ সালে তিনি তার ক্যারিয়ারে একটি মোড় পরিবর্তন করলেন, আসলে দুটি পরিবর্তন: তিনি নেভাল লেজিসলেটিভ ফেলোশিপ পদের জন্য আবেদন করলেন, ক্যাপিটল হিলে এক বছরের চাকরির খোঁজে; এবং একই সময়ে, নাসা নভোচারী প্রোগ্রামে তার জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি পাঠালেন।

ফেলোশিপটি দ্রুতই হয়ে গেল এবং গ্লোভারকে সিনেটর জন ম্যাককেইনের অফিসে নিয়োগ দেওয়া হলো। তবে গ্লোভার তার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। নয় মাস পর, তিনি যখন রাসেল সিনেট অফিস বিল্ডিংয়ের গোলচত্বর দিয়ে হাঁটছিলেন, তখন তিনি তার মোবাইল ফোনে একটি মিসড কল দেখতে পেলেন, সেটা নাসা থেকে!

“আমি তাদের কল ব্যাক করলাম এবং মনে হলো অনন্তকাল ধরে আমি হোল্ডে ছিলাম”, গ্লোভার বলেন। অবশেষে, জ্যানেট কাভান্দি, একজন প্রাক্তন নভোচারী এবং নভোচারী-নির্বাচন কমিটির চেয়ারপারসন, লাইনে এলেন এবং তাকে নভোচারী দলে স্বাগত জানালেন। “পরদিন সকালে, তিনি আমাকে একটি ইমেল পাঠিয়ে বলেছিলেন, এটি কোনো স্বপ্ন ছিল না।” গ্লোভার, যার বয়স এখন ৪৯, এরপর একবার মহাকাশে গিয়েছেন, ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ১৬৮ দিন কাটিয়েছেন।

কোক, ৪৭, দক্ষিণ মেরু হয়ে নাসায় তার পথ করে নিয়েছিলেন। ছোটবেলায় তার দুটি মুগ্ধতার জায়গা ছিল অ্যান্টার্কটিকা এবং মহাকাশ, এবং তার শোবার ঘরের দেয়ালগুলো দুটিরই পোস্টার ও মানচিত্রে ঢাকা ছিল। “আশেপাশের কেউ যদি অ্যান্টার্কটিকা শব্দটি উচ্চারণ করত, আমি সাথে সাথে ঝাঁপিয়ে পড়তাম, জিজ্ঞেস করতাম ‘আমি কীভাবে সেখানে যেতে পারি? আমি কখন যেতে পারব?'”, তিনি বলেন।

মিশিগানের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস-এ জন্মগ্রহণকারী কোক, নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পদার্থবিজ্ঞান পড়ার জন্য স্থানান্তরিত হন। ২০০২ সালে, পকেটে সেই জোড়া ডিগ্রি নিয়ে, তিনি মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে আবেদন করেন এবং কাজ শুরু করেন, যেখানে তাকে মহাকাশযানের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ডিজাইন করার একটি দলে নিয়োগ দেওয়া হয়।

কিন্তু সেখানে দুই বছর থাকার পর, কোক তার অ্যান্টার্কটিকার তীব্র আকাঙ্ক্ষার কাছে নতিস্বীকার করেন এবং ইউনাইটেড স্টেটস অ্যান্টার্কটিক প্রোগ্রামে রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হওয়ার জন্য আবেদন করেন। তিনি অ্যান্টার্কটিকায় তিন বছরের বেশি সময় কাটিয়েছেন, যার মধ্যে আমুন্ডসেন-স্কট সাউথ পোল স্টেশনে এক বছর থাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও তাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য আরও কয়েকজন গবেষক ছিলেন, কিন্তু সেখানকার বিচ্ছিন্নতা ছিল চ্যালেঞ্জিং, কাজ ছিল কঠিন এবং প্রকৃতি ছিল অত্যন্ত কঠোর। একবার প্রচণ্ড ঠান্ডার সময়ে, দলের ছোট বাসস্থানটির বাইরের তাপমাত্রা মাইনাস ১১১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে গিয়েছিল।

২০১৩ সালের শুরুর দিকে, অ্যান্টার্কটিকার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পর, কোক তার অন্য আরেক বিশালকার আবেগের দিকে ফিরে তাকান এবং নাসার ২১তম নভোচারী ক্লাসে ভর্তির জন্য আবেদন করেন। ইন্টারভিউ প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ছিল; অবশেষে, জুনে, তিনি কাভান্দির কাছ থেকে একটি কল পেলেন। “আমরা আপনাকে আমাদের দলে যোগ দেওয়ার কথা জানাতে ফোন করেছি,” কাভান্দি বলেছিলেন। “আমরা চাই আপনি হিউস্টনে চলে আসুন।”

সেই কলটির ফলস্বরূপ ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) বিশাল ৩২৮ দিন অবস্থান করেন। এটা একজন নারীর একক মহাকাশযাত্রার দীর্ঘতম রেকর্ড হিসেবে এখনও টিকে আছে। সেই স্টেশনে থাকার সময়, কোক নভোচারী জেসিকা মেয়ারের সাথে প্রথম সর্বনারী ‘স্পেসওয়াক’ বা মহাকাশভ্রমণেও অংশ নিয়েছিলেন। ঘটনাটি একটি মাইলফলক ছিল, এটা বিশ্বব্যাপী প্রচুর সাড়া ফেলেছিল। তৎকালীন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি সেই সময় টুইটার নামে পরিচিত প্ল্যাটফর্মে লিখেছিলেন, কোক এবং মেয়ারকে “ইতিহাসে তাদের চিহ্ন রেখে যাওয়ার জন্য” তিনি সাধুবাদ জানান।

হ্যানসেন, ৪৯, কানাডিয়ান, এখনও সেই চিহ্ন রাখতে পারেননি। আর্টেমিস ২ গ্রুপের একমাত্র নতুন সদস্য তিনি। তিনি এসেছেন অন্টারিওর আইলসা ক্রেইগের একটি খামার থেকে, যেখানে তিনি ছোটবেলায় বাস করতেন, দিনে স্কুলে যেতেন এবং অবসরে খামারের কাজে সাহায্য করতেন। তবে সেই সময়ের বেশিরভাগ জুড়েই তার মন পড়ে থাকত উড্ডয়নে। খুব ছোটবেলা থেকেই তিনি জানতেন যে তিনি পাইলট হতে চান এবং সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চান। যখন তার বয়স ১২, তার বাবা তাকে ‘রয়েল কানাডিয়ান এয়ার ক্যাডেট স্কোয়াড্রন’-এ ভর্তি হতে সাহায্য করেছিলেন। এটি একটি ইয়ুথ লিডারশীপ প্রোগ্রাম, যা ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার পাশাপাশি বিমান চালানো শেখায় এবং আশ্বাস দেওয়া হয় যে কোরে তাদের প্রথম বছরেই তাদের গ্লাইডারের স্টিয়ারিং হাতে দেওয়া হবে।

“এর সাথে সামরিক বাহিনীর একটি আলগা সম্পর্ক আছে,” হ্যানসেন বলেন। “আপনি ইউনিফর্ম পরবেন, বুট পালিশ করবেন, ড্রিল করবেন এবং আপনি আকাশে ওড়ার সুযোগও পাবেন।”

নাসার নভোচারী (বাম থেকে ডানে) ক্রিস্টিনা কোক, ভিক্টর গ্লোভার, রিড ওয়াইজম্যান এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। ক্রেডিটঃ নাসা/জশ ভালকারসেল।

১৬ বছর বয়সে হ্যানসেন তার গ্লাইডার লাইসেন্স এবং পরের বছর প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স পেয়ে যান। হাই স্কুল থেকে স্নাতক হওয়ার পর, তিনি রয়্যাল মিলিটারি কলেজ সেন্ট-জিন-এ ভর্তি হন, যেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সে যোগদান করেন এবং শেষ পর্যন্ত নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (NORAD)-এ নিযুক্ত হন, যেখানে তিনি আর্কটিকের আকাশে টহল দিতেন।

২০০৮ সালে, কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি তাদের নভোচারী দলের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। হ্যানসেন আবেদন করেন এবং পরের বছরই সুযোগ পান। তিনি গত ১৭ বছর ধরে একটি মিশনের জন্য, যেকোনো একটি মিশনের জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এবং অবশেষে ২০২৩ সালের ৩রা এপ্রিল তিনি সেই ডাক পেলেন যে তাকে চাঁদের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

“সেদিন সে উৎসবমুখর, প্রফুল্ল মেজাজে বাড়ি ফিরেছিল,” হ্যানসেনের স্ত্রী ক্যাথরিন মনে করেন। “সে বলেছিল, ‘এটা ঘটছে, এটা অফিশিয়াল। আমরা যা আশা করেছিলাম তা সত্যি হচ্ছে’।”

ওয়াইজম্যান, যার বয়স এখন ৫০ এর কোঠায়, এই আর্টেমিস মিশন কমান্ডার। জীবনভর যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর সেবা করে এখন শান্তিপূর্ণ চাঁদে যাত্রার সুযোগ অর্জন করেছেন। রেনসেলার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির স্নাতক, যেখানে তিনি প্রথমে ব্যাচেলর এবং পরে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন, উভয় মেজর ছিল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। তিনি রেনসেলার -এর রিজার্ভ অফিসার্স ট্রেনিং কোর প্রোগ্রামের মাধ্যমে ১৯৯৭ সালে একজন নেভাল এভিয়েটর বা নৌ-বৈমানিক হিসেবে কমিশন পান। তিনি এমন এক বিপজ্জনক সময়ে বৈমানিক হয়েছিলেন, যখন তিনি ৯/১১ এর হামলার আগে ও পরে এবং ইরাক যুদ্ধের দীর্ঘ সময় জুড়ে দায়িত্ব পালন করেন, এবং পাঁচটি ডিপ্লয়মেন্ট বা সেনা মোতায়েন সম্পন্ন করেন।

তিনি যে কমব্যাট বা যুদ্ধ মিশনগুলোতে উড়েছিলেন তা নিয়ে আজ তিনি কিছুটা অস্বস্তি বোধ করেন। “আমার এটা বলা উচিত নয় যে আমি এটা পছন্দ করিনি,” তিনি বলেন, “[কিন্তু] আমার আর কখনো ওটা করার দরকার নেই। মাটিতে থাকা লোকগুলোর জন্য আমি এটা পছন্দ করিনি। বাতাসে থাকা আমাদের জন্যও তারা এটা পছন্দ করেনি। মাঝে মাঝে ভয়ে আমার জান বেরিয়ে যাওয়ার দশা হতো।”

২০০৮ সালে, ওয়াইজম্যান দিক পরিবর্তন করেন। ৩,৫০০ জন আবেদনকারীর সাথে, তিনি নাসার ২০তম ক্লাসের নতুন নভোচারী সদস্য হিসেবে নির্বাচনের জন্য তার নাম জমা দেন। পরের বছর, ওয়াইজম্যানসহ তাদের মধ্যে নয়জনকে নির্বাচিত করা হয়। এরপর ২০১৪ সালে তিনি ১৬৫ দিনের একটি স্পেস স্টেশন রোটেশনে উড়েছেন এবং ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি নাসা নভোচারী অফিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

“এমন কোনো উৎক্ষেপণ ছিল না যেখানে আমার মনে হয়নি যে আমি হার্ট অ্যাটাকের দ্বারপ্রান্তে, কারণ আপনি জানেন কাদের আপনি মিশনের জন্য নিয়োগ দিয়েছেন,” তিনি বলেন। “আপনি তাদের সাফল্য, তাদের পরিবার, তারা কেমন করছে তা নিয়ে ভাবছেন। আমি প্রতিটি ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অনেক যন্ত্রণায় সময় কাটিয়েছি।” ফেব্রুয়ারিতে যখন এসএলএস রকেটের ইঞ্জিনগুলো জ্বলে উঠবে, তখন মাটিতে থাকা মানুষগুলো ওয়াইজম্যান এবং তার ক্রুদের জন্য ঠিক একই অনুভূতি অনুভব করবে।

তারা যেভাবে চাঁদে যাবেন

আর্টেমিস ২-এর চাঁদে যাওয়ার যাত্রা কোনোভাবেই সোজা পথে হবে না। মিশনটি শুরু হবে যখন এসএলএস মুন রকেটের প্রথম ধাপের ছয়টি ইঞ্জিন জ্বলে উঠবে: চারটি তরল জ্বালানি চালিত এবং দুটি স্ট্র্যাপ-অন কঠিন জ্বালানির রকেট। ১৯৬৮ সাল থেকে, মানুষকে বহন করার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ছিল অ্যাপোলো প্রোগ্রামের ‘স্যাটার্ন ৫’, যা আক্ষরিক অর্থেই ভূপৃষ্ঠ কাঁপানো ৭৫ লক্ষ পাউন্ড থ্রাস্ট বা ধাক্কা তৈরি করত। এসএলএস এর ক্ষেত্রে এটা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৮৮ লক্ষ পাউন্ড থ্রাস্ট তৈরি করে।

ওপরের দিকে ওঠার সময়, এসএলএস দ্রুত তার প্রথম ধাপের ছয়টি ইঞ্জিনের জ্বালানি শেষ করে ফেলবে এবং সেগুলো পৃথিবীতে খসে পড়বে। কক্ষপথে পৌঁছানোর জন্য কেবল রকেটের ওপরের ধাপ এবং ওরায়ন মহাকাশযানটি অবশিষ্ট থাকবে। সেই কক্ষপথটি হবে অনেকটা একপেশে, যার উচ্চতা সর্বনিম্ন বিন্দু বা পেরিজি হবে ১১৫ মাইল এবং সর্বোচ্চ বিন্দু বা অ্যাপোজি হবে ১,৪০০ মাইল। এটা আইএসএস যে উচ্চতায় ওড়ে (২৫০ মাইল) তার চেয়ে অনেক বেশি।

পৃথিবীর চারপাশে ৯০ মিনিটের একটি দ্রুত চক্কর দেওয়ার পর, এসএলএস এ সংযুক্ত থাকা ২য় ধাপের ইঞ্জিনটি চালু হবে। এটা এসএলএস এর কক্ষপথটিকে ১,৫০০ মাইলে উন্নীত করবে এবং সর্বোচ্চ বিন্দু হবে ৪৬,০০০ মাইল। এটা এমন একটি উচ্চতা যা মহাকাশযানটিকে চাঁদের পথের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নিয়ে যাবে। সেই গতি এবং উচ্চতায়, পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে মুক্ত হয়ে চাঁদের দিকে যেতে জাহাজটির তুলনামূলকভাবে ছোট একটি ধাক্কা প্রয়োজন, এই কৌশলটিকে বলা হয় ট্রান্সলুনার ইঞ্জেকশন (TLI)। সেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি ঘটবে পৃথিবীর চারপাশে আরও একবার ঘোরার পর, যখন ওরায়ন ওপরের ধাপটি বর্জন করবে এবং চাঁদের দিকে ছুটে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ধাক্কা দিতে নিজস্ব ছোট সার্ভিস মডিউল ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করবে।

পৃথিবী এবং চাঁদের মধ্যে মোট ২,৪৪,০০০ মাইলের শূন্যতা পাড়ি দিতে জাহাজটির প্রায় চার দিন সময় লাগবে। চাঁদের পৃষ্ঠের সবচেয়ে কাছে ক্রুদের অবস্থান হবে চন্দ্র পাহাড়গুলোর প্রায় ৪,০০০ মাইল ওপরে, যা চাঁদের উল্টো দিকে বা পৃথিবীর দূরবর্তী পাশে ৪,৭০০ মাইল দূরত্বে গিয়ে পৌঁছাবে। সেখানর এরপর চাঁদের মহাকর্ষ বল জাহাজটিকে গুলতির মতো ছুঁড়ে আরও চার দিনের যাত্রায় পৃথিবীতে ফেরত পাঠাবে।

ভ্রমণের শেষ ধাপ, অর্থাৎ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ বা রি-এন্ট্রির জন্য কিছু দারুণ উড্ডয়ন কৌশল লাগবে। পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে ফিরে আসা মহাকাশযানগুলো তাদের ১৭,৫০০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতি কমাতে রেট্রো রকেটের ব্রেকে চাপ দেয়, যার ফলে তারা ধীরে আকাশ থেকে নিচে নেমে আসে এবং বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। আর্টেমিস ২ এর পরিবর্তে ২৫,০০০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে বায়ুমণ্ডলে আছড়ে পড়বে। রি-এন্ট্রির উভয় পদ্ধতিই অগ্নিগর্ভ সমতুল্য। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণকারী মহাকাশযান নিচে নামার সময় ক্যাপসুলের নিচে হিট শিল্ড এ ৩,৫০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা তৈরি হয়। আরও দ্রুতগতিতে চলা ওরায়ন মহাকাশযানকে ৫,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তীব্র তাপমাত্রা সহ্য করতে হবে, যা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার অর্ধেক।

সেই পুনঃপ্রবেশকে বেঁচে থাকার যোগ্য করতে, ওরায়ন কোনো কক্ষপথের জাহাজের মতো তুলনামূলকভাবে সোজা পথে নামবে না। বরং তথাকথিত ‘স্কিপ-এন্ট্রি’ বা ড্রপ খাওয়ার পথ অনুসরণ করবে, বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, আবার মহাকাশে উঠে যাবে, এবং তারপর পুনরায় প্রবেশ করবে। এই প্রক্রিয়ায় তাপ এবং মহাকর্ষীয় বল কমিয়ে আনবে। সেই রোলার-কোস্টারের মতো যাত্রাটি অ্যাপোলো ৮-এ নিখুঁত করা হয়েছিল এবং পরবর্তী অন্য আটটি চন্দ্রাভিযানের প্রতিটিতে সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবুও এর মানে এই নয় যে আর্টেমিস ২-এর ক্রুদের জন্য এই অনুশীলনটি লোমহর্ষক হবে না। ১০ দিনের মিশনের বৃহত্তর তাৎপর্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, গ্লোভার বরং শেষ দিনের শেষ মুহূর্তগুলোর ওপর ফোকাস করেন।

“আসুন আগে সফলভাবে পানিতে অবতরণ বা স্প্ল্যাশডাউন করি,” তিনি বলেন। “তারপর হয়তো আমরা প্রশ্নটি আবার ভেবে দেখতে পারি।”

পরবর্তী পদক্ষেপ

স্প্ল্যাশডাউনের খুব বেশি দেরি হবে না যখন সবার মনে আরেকটি জরুরি প্রশ্ন আসবে: এরপর কী? আর্টেমিস ২ হলো যাকে মহাকাশ পরিকল্পনাকারীরা একটি ইঞ্জিনিয়ারিং মিশন বলেন। যার উদ্দেশ্য অন্বেষণের চেয়ে মহাকাশযানের সমস্ত অন-বোর্ড সিস্টেম পরীক্ষা করা বেশি, প্রোপালশন বা চালিকাশক্তি, নেভিগেশন, লাইফ সাপোর্ট, কম্পিউটার, গাইডেন্স, যোগাযোগ এবং আরও অনেক কিছু। এটি মহাকাশে ক্রুদের, ফ্লোরিডায় লঞ্চ টিমের এবং হিউস্টনে মিশন কন্ট্রোলারদের সাহসও পরীক্ষা করবে। চন্দ্রাভিযানগুলোর মধ্যে ৫৪ বছরের বিরতির পর নাসার ঝেড়ে ফেলার মতো অনেক ধুলোবালি জমে আছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে, পরবর্তী মিশন, আর্টেমিস ৩, চাঁদে অবতরণের খুব বড় কাজটি সামলাবে। আনুষ্ঠানিকভাবে এটাও বলা হচ্ছে যে এটি ২০২৮ সালের মধ্যে ঘটবে, কিন্তু খুব কম লোকই বিশ্বাস করেন যে এই লক্ষ্য অর্জনযোগ্য। লক্ষ্যমাত্রার তারিখটি বারবার পিছিয়েছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫, তারপর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর, এবং তারপর ২০২৭ সালের মাঝামাঝি। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যাটি লুনার ল্যান্ডার বা চাঁদে অবতরণকারী যানটি নিয়ে, যা এখনও অস্তিত্বহীন।

অ্যাপোলো ক্রুদের মতো, ভবিষ্যতের আর্টেমিস নভোচারীরা চাঁদে অবতরণের জন্য দুটি যানের ওপর নির্ভর করবেন: একটি মাদার শিপ বা মূল জাহাজ, যা চাঁদের কক্ষপথে ঘুরবে এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশ করবে এবং একটি ল্যান্ডার যা চারজন নভোচারীর মধ্যে দুজনকে কক্ষপথ থেকে চাঁদের পৃষ্ঠে নিয়ে যাবে। ২০২১ সালে, নাসা ল্যান্ডার তৈরির জন্য ইলন মাস্কের স্পেসএক্সকে চুক্তিটি প্রদান করে এবং কাজটি সম্পন্ন করার জন্য কোম্পানিকে ২.৮৯ বিলিয়ন ডলারের চেক দেয়।

অ্যাপোলোর দিনগুলোতে, ল্যান্ডার এবং মাদার শিপ একই রকেটে উৎক্ষেপণ করা হতো। আজকের আরও বড়, আরও সক্ষম ল্যান্ডারটি এসএলএস থেকে আলাদা একটি রকেটে উৎক্ষেপণ করা হবে এবং মহাকাশে ওরায়নের সাথে ডক বা সংযুক্ত হবে। স্পেসএক্স যে রকেটটি ব্যবহারের প্রস্তাব করেছে তা হলো তাদের বিশাল স্টারশিপ, যার ওপরের ধাপটি লুনার ল্যান্ডার হিসেবে কনফিগার করা হয়েছে। শুরু থেকেই, এটি একটি অসম্ভাব্য পছন্দ ছিল। অ্যাপোলো লুনার মডিউলটি ২৩ ফুট লম্বা ছিল, ওজন ছিল মাত্র ৩২,৫০০ পাউন্ড, মহাকাশযানের হিসেবে যা পালকের মতো হালকা। এবং এর ছিল একটি ছড়ানো, চার পায়ের ভঙ্গি যা এটিকে মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্রের নিচে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করত। এর বিপরীতে, স্টারশিপ ল্যান্ডারটি একটি রুপালি সাইলো বা বিশাল স্তম্ভের মতো, যার ওজন ২,০০,০০০ পাউন্ড এবং উচ্চতা ১৬৫ ফুট, এবং নভোচারীদের মাটিতে নামানোর জন্য মইয়ের পরিবর্তে একটি অন-বোর্ড লিফটের প্রয়োজন হবে। একবার উৎক্ষেপণের পর এটি সোজা চাঁদের দিকে উড়বে না, বরং পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরাঘুরি করবে যখন এটিকে রওনা দেওয়ার আগে গ্যাস ভরার জন্য ২০টি পর্যন্ত জ্বালানি ট্যাঙ্কার উৎক্ষেপণ করা হবে।

এত বড় একটি মেশিন একটি জটিল কাজের জন্য একটু বেশিই এবং গত তিন বছরে একাধিক উৎক্ষেপণে স্টারশিপ রকেটগুলো বারবার বিস্ফোরিত বা বিধ্বস্ত হওয়াটা খুব একটা সাহায্য করেনি, যা প্রকল্পটিকে সময়সূচি থেকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। এই বিলম্বটি দেশটির নীতিনির্ধারক এবং মহাকাশ গবেষকদের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী অবতরণের চীনের ঘোষিত লক্ষ্যের মুখে, যা পুরনো মার্কিন-সোভিয়েত মহাকাশ প্রতিযোগিতার বা স্পেস রেসের একবিংশ শতাব্দীর পুনরাবৃত্তির সূচনা করছে।

“[স্টারশিপ] আর্কিটেকচারটি অস্বাভাবিক জটিল,” নাসার প্রাক্তন অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জিম ব্রাইডেনস্টাইন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিনেটের সাক্ষ্যগ্রহণের সময় বলেছিলেন। “সত্যি বলতে, আপনি যদি চাঁদে প্রথমে যেতে চান, এবার চীনকে হারানোর জন্য, তবে এটি খুব একটা যুক্তিসঙ্গত মনে হয় না।”

গত অক্টোবরের মধ্যে, তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত নাসা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর শন ডাফি যথেষ্ট দেখেছিলেন। “আমি চুক্তিটি সবার জন্য উন্মুক্ত করতে যাচ্ছি,” তিনি সিএনবিসি-তে এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন। “আমি স্পেসএক্সের সাথে অন্যান্য মহাকাশ কোম্পানিগুলোকে প্রতিযোগিতা করতে দেব। আমরা এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাব এবং চীনাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মহাকাশ প্রতিযোগিতা জিতব।”

মাস্ক প্রতিক্রিয়া জানালেন… বেশ রূঢ়ভাবে। “শন ডামি নাসাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে”, তিনি এক্স-এ পোস্ট করেছেন। “আমেরিকার মহাকাশ কর্মসূচির জন্য দায়ী ব্যক্তির আইকিউ দুই অঙ্কের বেশি হতে পারে না।”

কিন্তু স্পেসএক্স দ্রুতই লাইনে ফিরে এল। নভেম্বরে, কোম্পানিটি তাদের ওয়েবসাইটে একটি দীর্ঘ আপডেট পোস্ট করে, যেখানে স্টারশিপ ল্যান্ডার সম্পন্ন করার পথে তারা ইতিমধ্যে যেসব আরঅ্যান্ডডি (গবেষণা ও উন্নয়ন) মাইলফলক অর্জন করেছে, তা বর্ণনা করে এবং আশ্বাস দেয় যে প্রকল্পের কাজ আসলেই দ্রুতগতিতে চলছে। একই সময়ে, অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মালিকানাধীন মহাকাশ কোম্পানি ব্লু অরিজিন, নাসার কাছে একটি প্রস্তাব জমা দেয় যার মধ্যে তাদের ‘ব্লু মুন মার্ক ১’ ল্যান্ডারের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই যানটির এই বছর কোনো এক সময় ব্লু অরিজিনের ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের ওপর চড়ে চাঁদে একটি মনুষ্যবিহীন পরীক্ষামূলক ফ্লাইট বা টেস্ট ফ্লাইট করার কথা রয়েছে। এছাড়াও প্রতিযোগিতায় আছে লকহিড মার্টিন, যারা আবার ওরায়ন মহাকাশযানের প্রধান নির্মাতাকারি প্রতিষ্টান, যারা ইতিমধ্যে বিদ্যমান হার্ডওয়্যার বা যন্ত্রাংশ থেকে জোড়াতালি দিয়ে একটি লুনার ল্যান্ডার তৈরির পরিকল্পনা প্রস্তাব করছে।

“আমরা এটাকে বলি ইনভেন্টরি বা মজুদ থেকে নকশা তৈরি”, লকহিড-এর হিউম্যান স্পেসফ্লাইট স্ট্র্যাটেজির সিনিয়র ডিরেক্টর রব চেম্বারস অক্টোবরে টাইমকে বলেছিলেন। “আমরা শিল্প অংশীদারদের সাথে বসে বলছি ‘আপনার ক্যাটালগ থেকে আমি কোন পার্ট বা অংশটি অর্ডার করতে পারি?’ তা নয়, বরং বলছি ‘আজ কোন সিরিয়াল নম্বরটি বিদ্যমান?’—এমনকি যদি তা অন্য মহাকাশযানেও থাকে।”

তবে এসবই পরের কথা। আপাতত, সকল ফোকাস আর্টেমিস ২-এর ওপর। চাঁদের পাড়ায় ফিরে যাওয়ার রেসে চীনের সাথে বিদ্যমান যেকোনো মহাকাশ প্রতিযোগিতায় কেবল স্বল্পস্থায়ী অগ্রগতিই বোঝাবে না বরং এটি এমন এক ধরণের জনউচ্ছ্বাসও দেবে যা ১৯৬০-এর দশক থেকে কেবল মহাকাশ উড্ডয়নই অনন্যভাবে দিতে পেরেছে। সব মিশন অবশ্য সম্মিলিতভাবে সকলকে স্পর্শ করে না, কিন্তু কিছুটা করে। যেমনটা ১৯৬২ সালে জন গ্লেনের পৃথিবীকে তিনবার প্রদক্ষিণ; অ্যাপোলো ৮-এর ক্রিসমাস ইভ-এর কাব্যিকতা; অ্যাপোলো ১১-এর চাঁদে অবতরণ; অ্যাপোলো ১৩-এর চুলচেরা ব্যবধানে উদ্ধার, এগুলো কেবল আমেরিকান অভিজ্ঞতা ছিল না বরং ছিল বৈশ্বিক নাটক, বৈশ্বিক বিজয়, বৈশ্বিক আনন্দ।

১৯৬৮ সালে অ্যাপোলো ৮-এর ক্রু। বাম থেকে: ফ্রাঙ্ক বোরম্যান, উইলিয়াম অ্যান্ডার্স, জিম লাভল। ক্রেডিটঃ নাসা/এএফপি/গেটি ইমেজেস

২০১৯ সালে কলিন্স, অ্যাপোলো ১১-এর কমান্ড-মডিউল পাইলট, যিনি আর্মস্ট্রং এবং অলড্রিন পৃষ্ঠে নেমে চাঁদে প্রথম বুটের ছাপ ফেলার সময় কক্ষপথে মাদার শিপে অবস্থান করছিলেন, টাইমের সাথে কথা বলেছিলেন সেই আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে যা তিনি ক্রুদের পৃথিবী সফরের সময় অনুভব করেছিলেন।

“আমি ভেবেছিলাম আমরা যখন কোথাও যাব তখন তারা বলবে, ‘ওহ, অভিনন্দন। তোমরা আমেরিকানরা শেষ পর্যন্ত এটা করেছ”, কলিন্স স্মরণ করেন। “কিন্তু তার বদলে, সর্বসম্মতভাবে প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘আমরা এটা করেছি। আমরা মানুষেরা অবশেষে এই গ্রহ ছেড়েছি এবং মুক্তিবেগ বা এসকেপ ভেলোসিটি অতিক্রম করে গেছি’।”

১৯৬৮ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত যে ২৪ জন চন্দ্র নভোচারী পৃথিবী ছেড়ে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে মাত্র পাঁচজন, সবাই তাদের ৯০-এর কোঠায়, বেঁচে আছেন। আর্টেমিস ২-এর মাধ্যমে, চাঁদের খাতাটি শেষ পর্যন্ত আবার খোলা হবে এবং আরও চারটি নাম খোদাই করা হবে, একটি চমৎকার এবং যোগ্য দল যাদের মহাজাগতিক শূন্যতায় পাঠানো হবে আমাদের বাকি ৮৩০ কোটি মানুষের প্রতিনিধি বা দূত হিসেবে, যারা চিরকাল পৃথিবীবাসী হয়েই থাকব। অ্যাপোলো ৮ ১৯৬৮ সালকে বাঁচিয়েছিল। আর্টেমিস ২ হয়তো আজ একই রকম জাদু দেখাতে পারে।

অনুবাদঃ  After 54 Years, Astronauts Are Going Back to the Moon | TIME 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *